ব্রেক্সিট ইস্যুঃ সংকট ও সম্ভাবনা

ব্রেক্সিট ইস্যুঃ সংকট ও সম্ভাবনা

ব্রেক্সিট বা Brexit মানে হচ্ছে Britain এর exit(প্রস্থান/বেরিয়ে যাওয়া) । কোথা থেকে বেরিয়ে যাবে তাঁরা??

 উঃEU(European Union ) থেকে।

ব্রেক্সিট কে জানতে হলে আমাদের কিছু terminology(পারিভাষিক শব্দ) সম্পর্কে জানতে হবে।।চলুন দেখা যাক সেগুলো –

নাম বিভ্রাটঃ

  •  Britain- এটি England ও Wales নিয়ে গঠিত।
  • Great Britain – England, Scotland  ও Wales নিয়ে গঠিত।
  • UK (United Kingdom) – England, Scotland,Wales ও Northern Ireland নিয়ে গঠিত।এই চারটি দেশ আবার  ‘ইউনাইটেড কিংডম অফ গ্রেট ব্রিটেন অ্যান্ড নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড’  নামে ও পরিচি।  
ব্রেক্সিট
 England (লাল অংশ), Scotland (নীল), Wales (সাদা),Northern Ireland (হলুদ) এই চারটি দেশ নিয়েই UK গঠিত। image source: cgp grey/youtube.

জেনে রাখা ভালো Ireland এর আর একটি অংশ Southern Ireland যা বর্তমানে Republic of Ireland নামে স্বাধীন সার্বভৌম একটি  দেশ। গোটা Ireland (Southern + Northern) ১৮০১ সালে UK এর অন্তর্ভুক্ত হয় কিন্তু  ১৯২২ সালে

ব্রেক্সিট
Northern Ireland (হলুদ অংশ),Southern Ireland / Republic of Ireland (নীল অংশ)
image source: cgp grey/youtube.

এর একটি অংশ Sothern Ireland এখান থেকে বেরিয়ে আসে এবং Republic of Ireland নামে স্বাধীন দেশ গঠন করে।

এখন এক বিপদ ঘটল অনেকের মনে প্রশ্ন ব্রেক্সিট বা Brexit (Britain এর exit) মানে কি তাইলে England আর Wales এর exit. আসলেই বিষয়টা সেরকম কিছু না। এখানে Brexit বলতে UK এর অন্তর্ভুক্ত চারটি দেশেরই exit বোঝানো হয়েছে। তাইলে UK exit কেন বলা হলো না?? কারণ তেমন কিছু না Brexit শুনতে ভালো লাগে বলতে সহজ তাই।

EU (European Union) –  পূর্ব নাম European Economic Community (EEC) যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালের ১লা জানুয়ারী (১৯৫৭ সালের ২৫ মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত রোম চুক্তির মাধ্যমে)। এরপর নান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের ম্যাসট্রিক্ট শহরে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সদস্যের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি নামে পরিচিত। ফলে পরবর্তীতে ১লা নভেম্বর ১৯৯৩ সালে এর নামকরণ করা হয় EU(European Union) এবং ১লা জানুয়ারী ১৯৯৯ সালে ইউরো মুদ্রা চালু করা হয়। বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২৮ এবং ইউরো চালু আছে ১৯ টি দেশে।

EU এর সদস্য হওয়া মানে তাঁদের দেওয়া কিছু principle (নিয়ম-নীতি) মেনে চলা।যেমন –

  • European single market – EU এর সদস্য দেশ গুলোর নাগরিক তাঁদের  উৎপাদিত  যে কোনো পণ্য নিয়ে অন্য  দেশে ব্যবসা করতে পারে,চাকরি করতে পারে। ঠিক যেমন ভারতের একটি রাজ্যের সাথে অন্য রাজ্যের সম্পর্ক। যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটা supernation তৈরী করে দেয়।         
  • Custom union – EU এর যে কোনো একটি দেশকে tax পরিশোধ করলেই যে কোনো দেশে বাণিজ্য করা যায়। অর্থাৎ কোনো দেশকে tax পরিশোধ করলে তা EU কেই পরিশোধ করা বোঝায়।       
  • No discrimination act – EU এর কোনো সদস্য দেশ এমন কোনো policy করতে পারবে না যাতে অন্য কোনো দেশের নাগরিক সেখানে ব্যবসা করতে বৈষম্যের স্বীকার হয়।

 Note/দৃষ্টি আকর্ষণঃ  যেহেতু খোদ (মূল) natives (স্বদেশীয়)- রা এটিকে Brexit(Britain এর exit) বলছে, তাই আলোচনার সুবিধার্থে  আমরা ও বার বার Britain  এর exit বলব কিন্তু Britain বলতে ঐ(UK এর) চারটি দেশকেই বুঝব।

 ব্রেক্সিট এর পিছনের ইতিহাস

Britain EU এর সদস্য হয়  ১৯৭৩ সালে। এরপর ১৯৭৫ সালে একটি গণভোট হয় তাঁরা EU তে থাকবে কি না সে বিষয়ে। এতে দেখা যায় ৬৫% লোক EU তে থাকার পক্ষে ভোট দেয়। জল আবার ও  ঘোলা হতে থাকে জুন,২০১৬ তে আবার গণভোট হয় এবং মোটামুটি ৫২% ভোট পড়ে ব্রেক্সিট এর পক্ষে।

এতে করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতায় আসেন থেরেসা মে। থেরেসা মে ও Brexit না করতে পারায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেনএবং ক্ষমতায়  আসেন   কট্টর ডানপন্থী + ব্রেক্সিটপন্থী  নেতা বরিস জনসন। এরপর থেকে বরিস জনসন (ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা)  এবং জেরেমি করবিন (বিরোধী দলীয় লেবার পার্টির নেতা) এর পার্লামেন্টে কাদা ছোড়াছুড়ি সম্পর্কে মোটামুটি সবার জানা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Brexit ঘটাতে মরিয়া বরিস জনসন সংসদে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা না থাকায় ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি  সংসদে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে গত  ১২ ই ডিসেম্বর আগাম নির্বাচনের ডাক দেয় এ নির্বাচনে  ৬৫০ আসনের পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ দল পায় ৩৬৪টি আসন।এখন এটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে যে ব্রিটেন ৩১শে জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে।

ব্রিটিশ নির্বাচনে কনজারভেটিভদের বিপুল বিজয়ের পর ব্রেক্সিটের সময়সূচি কি হতে পারে তা নিয়ে একটি খসড়া চিত্র –  

Image source: BBC

 আরও পড়ুন

এখন সরল মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাঁরা তো বেরিয়ে গেলেই হয় এই সাড়ে তিন বছর(২০১৬ থেকে বর্তমান) ধরে এত কাহিনী করার কী আছে??অর্থাৎ Brexit এর কারণ কী এবং প্রতিবন্ধকতা কী  ??

 কারণঃ

  • EU এর central bank (ECB – European Central Bank) কে donation দেওয়া থেকে বিরত থাকা। কারণ তাঁদের নিজেদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন আর ঐ পর্যায়ে নেই।
  •  EU এর যে কোনো একটি দেশে ঢুকলেই অন্য দেশগুলোতে ও বিচরণ করা যায়। এতে করে ইংরেজ জাতির যে আভিজাত্য ছিল তা ক্ষুণ্ণ আছে সাথে তাঁদের নিরাপত্তা ও হুমকির মধ্যে পড়ছে।  আবার অন্য অনুন্নত দেশের লোকেরা তাঁদের দেশে এসে কম মূল্যে শ্রম বিক্রয় করছে, এতে করে তাঁদের দেশের unemployment rate বাড়ছে। তাই তাঁরা নিজের দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।     
  • অধিকাংশ ইংরেজরা মনে করছে EU ছাড়াই আমরা শক্তিশলী। অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে একটা চরম জাতীয়তাবোধ কাজ করছে।
  • তাঁরা EU এর বেঁধে দেওয়া policy গুলো মানতে অনীহা দেখচ্ছে। তাঁদের ধারণা EU কিছু অযাচিত নিয়ম তাঁদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবন্ধকতাঃ        

  • Uncertainty –  একটি দেশকে exit করতে প্রায় দুই বছর সময়ের প্রয়োজন হয় এই সময় investment fall হতে পারে।
  • GDP – exit করার পর প্রথম দিকে ২-২.৫%  GDP কমে যেতে পারে। যদিও পরবর্তীতে তা আবার বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
  • Investment – বিনিয়োগ কমতে পারে। UK এর কোম্পানিগুলোর উপর UK শুল্ক বাড়াতে পারে।
  • Uk এর সকল দেশ এই চুক্তি মানবে কিনা? যদি কোনো দেশ ধরা যাক  Scotland EU তে থাকতে চায় তাইলে তাঁদের UK থেকে বেরিয়ে যেতে হবে তখন সীমানা নির্ধারণ এর কী হবে?    

মন্তব্যঃ সম্ভবত আসছে ৩১ জানুয়ারীতেই brexit ঘটতে চলেছে। যদি চুক্তিসহ হয় তাইলে সেটা তুলনামূলক মঙ্গলজনকই হবে। এতে করে নাকের উপর থেকে বিষফোঁড়াটা নেমে যাবে। বিষফোঁড়া যেমন কেটে/ছেটে ফেলা যায় না কিছুদিন যন্ত্রণা দিয়ে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। Brexit এর বর্তমান পরিস্থিতি ও তাই। এখন কিছুটা উদ্বেগ/হতাশার জন্ম দিলে ও কোনো একটা সময় তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এমনকি বিশ্ব অর্থনীতির বাজারে অনেক বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।    

ব্রেক্সিট ইস্যুঃ সংকট ও সম্ভাবনা লেখাটি লিখেছেন
জাহিদ হাসান সুমন
শিক্ষা এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফেসবুক আইডি

Leave a Reply