ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তে কবি হওয়ার দুর্দান্ত গল্প

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তে কবি হওয়ার দুর্দান্ত গল্প

সত্যব্রত বিশ্বাস বাপ্পি। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগে। বললেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তে কিভাবে কবি বনে গেলেন তার দুর্দান্ত গল্প।

“কাকে নিয়ে লেখেন,কাকে ভেবে লেখেন,লেখাগুলো কি শুধুই কাল্পনিক না কারো অদৃশ্য স্মৃতিরং মাখানো সেখানে? ” বিগত কয়েক বছর ধরে এই প্রশ্নগুলো প্রায় সহস্য বার শুনেছি এবং এড়িয়ে গিয়েছি।ক’দিন হল উৎকন্ঠার ছায়া পড়ছে আমার উপর।হয়ত আমি অথবা অন্য জলজ্যান্ত কেউ হারিয়ে যাবে।

প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া উচিত। ক্লাস এইট থেকে লিখি তবে সেগুলো নিছক ছন্দ মেলানোর প্রচেষ্টা। কলেজে পড়াকালীন ও লিখতাম ।তখন আমার কবিতা লেখার খাতা খুলে লেখা গুলো পড়লেই সবাই হো হো করে হাসি শুরু করত।

ভার্সিটিতে উঠে যখন ফেসবুকে লিখতাম তখন দেখা হলে বন্ধুরা বলতো, “কি বাল লিখিস ফেসবুকে?” হ্যাঁ বাল। ২০১৭ সালের শুরুর দিক দেড় বছরের মাথায় এসে আমার তৎকালীন মুসলিম প্রেমিকার সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

ভার্সিটি শেষ করে আইইএলটিএস করে বাইরে চলে যাবো দু’জন(বোকা প্লানিং),এই লম্বা সময় ধরে সমাজ, পরিবার,বন্ধুদের কাছে যার জন্য অপমানিত হয়েছি সেও চলে গেলো অনেক বাজে ভাবে।

মাস খানেক স্লিপিং পিল,ডিপ্রেশন কিলার,এটা ওটার উপর ছিলাম।তারপর একদিন ফেসবুকে “অ-বিচ্ছেদ ” নামক একটা কবিতা পোস্ট করি যার প্রথম দুই লাইন ছিল “আমি তো বিচ্ছেদ মেনে নেয় নি,তুমি একা একাই চলে গেছ।” তার পর লিখে ফেললাম “তুমিহীন নিশিকাব্য”, ” দূরত্ব ছায়া”,” বিভেদ”, “নন্দিত অমানুষ ” ইত্যাদি।

খেয়াল করলাম কবিতাগুলো শেয়ার হচ্ছে ফেসবুকে,পরিচিত রা দেখা হলে প্রশংসা শুরু করছে। তারপর বিভিন্ন পেইজ,গ্রুপে নিয়মিত কবিতা এপ্রুভ করতে লাগলো আমার।

আরও পড়ুন

২০১৮ সাল পর্যন্ত লেখা অধিকাংশ কবিতাই আমার ব্যক্তিগত জীবনের।এর ভিতর অনেক গুনী মানুষ আমাকে গাইড করতে থাকে।আমার উন্নতি হতে থাকে।ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে আমি সমাজ,দেশ,বিজ্ঞান, সাইকোলজি, মানুষ নিয়ে লিখতে শুরু করি।এই যে চলছে।

এই যে এবারের বইমেলায় কবিতা, খুলনার কিছু দৈনিক সহ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় আমার কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে।সত্যি এইসব কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি।

আমাকে কেউ কবি/লেখক/সাহিত্যিক বললে আমি রেগে যাই কারণ এই শব্দগুলোর জন্য যতটা জ্ঞান এবং সাধনার প্রয়োজন আমি সেখানে নগণ্য। আমি কিছুই না-অতি সাধারণ যতটুকু অর্জন সব বিচ্ছেদ থেকে সাপেবর।

Leave a Reply