নাগরিক জার্নাল (২) – আল শাহারিয়া

নাগরিক জার্নাল (২) – আল শাহারিয়া

শহরের কোণে শুভ্র কাশফুলেও ধুলো জমে। অলি-গলির বিলবোর্ড-ব্যানার ঢেকে যায় ধুলোর আস্তরণে। নাগরিক রূপকথায় ভরা সাইনবোর্ড দমবন্ধ হয়ে মৃতের মতো পড়ে থাকে। তারপর শহরে একদিন বৃষ্টি আসে।

সেই বৃষ্টিতে ভিজে যায় সব। কাশফুল থেকে সাইনবোর্ড। ধুয়ে যায় বিষাক্ত ধুলো-ময়লা। মেঘে ঢেকে যায় শহর। বিজলির ঝলকানিতে চকচকে চোখ বাঁচার নতুন স্বপ্ন দেখে। এই মানববিরূপ আবহাওয়াতেও একদল মানুষ একাকী অনন্ত পথঘাট পেরিয়ে যায়।

কেউ ছুটে বেড়ায় কর্মের সন্ধানে। বৃষ্টি শেষে নতুন সূর্য আসে। নতজানু কাশফুল নতুন সূর্যের আলোয় রৌদ্রস্নানে মাথা তুলে দাঁড়ায়।

আমাদের পায়ে মাড়িয়ে যাওয়া ঘাসগুলো পর্যন্ত জ্বলজ্বল করে ওঠে। যেন নতুন জীবন পাওয়া। নতুন করে বাঁচতে পারা। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এই পার্কের ঘাসের উপর কাঁচি চালাবে মালি।

নাগরিক জার্নাল (১) – আল শাহারিয়া

কত প্রেমিক-প্রেমিকা প্রেম বিনিময় করবে ঘাসের শরীরে দাঁড়িয়ে। দম্পতি অথবা দুই প্রজন্ম একসাথে ধুলোর জুতোয় আবার মাড়িয়ে যাবে তাকে। গোলাপের বাজারে সবসময় রমরমা ভাব।

রোজ নতুন শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে আর রোজ নতুন প্রেমিক-প্রেমিকা সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ বা দিনে ২১ টি গোলাপের অধিকার রাখে। কেউ একটাতেই খুশি। একবিন্দু শিশিরেই বন্যা সৃষ্টি হওয়া পিঁপড়ার ঘরে বৃষ্টি আসে মহাপ্রলয় নিয়ে।

মৃত্যু অবধারিত ভেবে নেয় কেউ কেউ। কেউ আবার সংগ্রাম করে। ওই বন্যায় ভেসে আসা ঘাসের পাতাকে নৌকা ভেবে উঠে পড়ে ক্ষুদ্র ঘাসের উপর। বৃষ্টির আঘাতে পড়ে যায়। আবার ওঠে। অথচ এই মহাপৃথিবীর মানুষেরা ক্ষুদ্র আঘাতে স্বপ্নহীন হয়ে পড়ে।

আশার অভাবে মরে। স্বেচ্ছায় মরে। মরে গিয়ে বেঁচে যাওয়ার চেষ্টা করে। মৃত্যু যেন দুধভাত। বোহেমিয়ানেরা জন্ম-মৃত্যুর ধার ধারে না।

যতক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাস চলে এবং সক্ষমতা থাকা অবধি তাদের অনবরত বিচরণ এই ক্ষুদ্র ভুবনে। ঠোঁটে প্রেমিকার ঠোঁটের বদলে সিগারেট চেপে রাখে। তাদের কাছে প্রেমিকার ঠোঁটের চেয়ে বেশী তৃপ্তি টং দোকানের চা-সিগারেটে।

—নাগরিক জার্নাল
আল শাহারিয়া
—০৬ আগস্ট‚ ২০২০

Leave a Reply