আমাদের বর্ষাযাপন – আল শাহারিয়া

আমাদের বর্ষাযাপন – আল শাহারিয়া

আমাদের বর্ষাযাপন হোক অনন্য সুন্দর। টিনের চালে ঝুমঝুম বৃষ্টিনৃত্যের শব্দ শুনে মুখরিত হবে চারিপাশ। তুমি-আমিও। আমি একগুচ্ছ কদম বাড়িয়ে দেবো তোমার দিকে। তুমি হাসি মুখে গ্রহণ করবে। বৃষ্টির ছোট ছোটো কণা তোমার শরীরে লাগবে।

তুমি আমার হাত চেপে ধরে শিউরে উঠবে। আমি বুঝবো তুমি বৃষ্টিকে অনুভর করতে পেরেছো। দুজনের দুই কানে রবিন্দ্রনাথ নিয়ে জেগে থাকবে অদিতি মহসিন।

আমাদের শরীরে বর্ষা লাগবে। বড় ওই হিজল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আমরা ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি মাখবো। পিংক ফ্লয়েডের গোলাপি শাড়িতে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা আমাকে মনে করিয়ে দেবে একাকী সময়ের সঙ্গী ‘Wish you were here’এর স্মৃতি।

তুমি চাইলে বাইপাস ধরে বৃষ্টি মাখতে মাখতে হাঁটবো তোমার সাথে। কোনো নির্জন আবাসিকে মাত্র একটি চা’য়ের দোকান থাকবে। চিনি ছাড়া দুধ চা’য়ের দুটি কাপে আমরা মিষ্টি বৃষ্টি মিশিয়ে আলতো ঠোঁটে চুমুক দেবো।

আহ্! বৃষ্টি-চা’য়ের মিষ্টতা আমাদের কোষপ্রাচীর পর্যন্ত ভেদ করে যাবে৷ বায়োলজির অতসব খুঁটিনাটি দূরে ঠেলে আমি তোমার ঐ লম্বা ভেজা কালো চুলের শরীরে লেগে থাকা বর্ষার কিছুটা আমি নাকে-মুখে মেখে নেব।

“তোমার ওই নির্ভুল ঠোঁট যদি পিথাগোরাস দেখতো তাহলে ত্রিভুজের ওই বহুল ব্যবহৃত সুত্রটিই আবিষ্কৃত হতো না। আমি নিশ্চিত মেন্ডেলিফ তোমার চোখ দেখলে তাঁর আবিষ্কৃত মৌলের অর্ধেকেরও নাগাল পেতো না। তাই তুমি আমার হয়ে ভালোই করেছো। আমি ওসবের কিছু চাই না‚ একটি এবং একমাত্র তুমিকে চাই।”

এইসব কথার মাঝে হঠাৎ বলে উঠবে “এই কিছু ফুল ছিঁড়ে আনো। আমার চুলে গুঁজে দাও।” আমি এই অনবরত ঝরে পড়া বর্ষার মধ্য দিয়ে নিজের জন্য শান্তি খুঁজবো৷ তোমার চুলের জন্য আমার প্রিয় ফুল খুঁজবো। অবশেষে পাবো এক বিশাল কৃষ্ণচূড়া।

ওই কৃষ্ণচূড়া চুলে গুঁজে আমরা ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালের মৃত প্রায় গ্রাফিতির সঙ্গে গা ঘেসে দাড়াবো। তখনই কোনো ফটোগ্রাফার গোপনে আমাদের ছবি তুলে নেবে। এই ছবিতে অনেকে অনেক অনুভূতি লিখে শেয়ার করবে। তাঁরাও চাইবে এমন একটি দিন।

এমন অনুভূতি। যদিও কষ্টের কথা ফটোগ্রাফার আড়ালেই থাকবে। অতঃপর এই শহরের ধোঁয়া ওঠা পরিবেশ ছেড়ে আমরা চলে যাবো পুকুর-ডোবায় ভরা গ্রামে। পুকুরে গলা অব্দি ডুবিয়ে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মুখ করে বৃষ্টি মুখে মাখবো।

নীমিলিত চোখে আর মুখে বৃষ্টি পড়েই মিলিয়ে যাবে। হঠাৎ আমি চোখ খুলে দেখবো বৃষ্টির ছোটো ছোটো ফোঁটা কিভাবে তোমার ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এই যে অনবদ্য বর্ষা ‚ এতে কোনো প্রপঞ্চ নেই। এ বর্ষা সত্য ‚ সহজ ‚ সুন্দর।

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসহীন একটি দিন হবে আমাদের। পাহাড় কিভাবে বৃষ্টি মাখে তা দেখা সৌভাগ্যের। পাহাড় আর গলিত মেঘের কি অপরূপ সংযোগ তা দেখে আমরা বিষ্ময়ে ডুবে যাবো। আমরা দু’জন মেঘ-পাহাড় হতে চাইবো।

আমি পাহাড় হলে তুমি বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিও আমায়। বন-জঙ্গলের বর্ষা সবচেয়ে উপভোগ্য। আমরা যদি জুরাসিক সময়ে ফিরে যেতে পারতাম এবং বর্ষাময় একটি দিন কাটাতাম জঙ্গলে তবে কি ভালোই না হতো! হঠাৎ তোমার ইচ্ছে হলো আর বৃষ্টি মাখবে না।

তখন বৃষ্টি জমে ভারী হয়ে যাওয়া সুবিশাল গাছটির প্রকাণ্ড এক পাতা এসে পড়লো মাটিতে। আমরা তুলে নিয়ে তা ছাতা হিসাবে ব্যবহার করলাম। অচেনা পরিবেশে তুমি শক্ত করে আমার হাত ধরলে। আমি অন্য হাত দিয়ে তোমার হাতটা চেপে ধরে বললাম‚ “এই হাত যেন শেষ হাত হয়‚ এই বিশ্বাস যেন চিরকাল রয়।” তুমি হাসলে। তুমি ভালোবাসলে।

আল শাহারিয়া
-দ্বাদশ শ্রেণি (বিজ্ঞান)
-সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ,খুলনা

Leave a Reply