নরকের দরজা: পৃথিবীর বুকে যেন নরকের অগ্নিমুখ
PHOTOGRAPH BY GEORGE VERSCHOOR, NATIONAL GEOGRAPHIC CHANNELS

নরকের দরজা: পৃথিবীর বুকে যেন নরকের অগ্নিমুখ

নরক বা জাহান্নাম নামটি শুনলেই আমাদের আগুনের কথা আগে পড়ে। আজ এমন অগ্নিগর্তের গল্প হবে যেটি নরকের দরজা নামে পরিচিত।

দরওয়াজা হচ্ছে তুর্কমেনিস্তানের একটি শহর। এই শহরে এই অগ্নিমুখের অবস্থান বলে এটিকে দারভাজা গ্যাসক্ষেত্রের অগ্নিমুখও বলা হয়।

দারভাজা গ্যাসক্ষেত্রের অগ্নিমুখটি দীর্ঘদিন জ্বলছে বলে এটি নরকের দরজা নামে পরিচিত। ইংরেজি যেটাকে Door to Hell বলে।

এটি কারাকুম মরুভূমিতে অবস্থিত। এই অগ্নিমুখটির ব্যাস ৬৯ মিটার ও গর্ত ৩০ মিটার দীর্ঘ। বিষাক্ত মিথেন গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে ভূতত্ত্ববিদ্গণ এটির মুখে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই ১৯৭১ সাল থেকে এটি জ্বলছে।

জিনিসটা ভাবলে ভয়ংকর মনে হলেও এটি তুর্কমেনিস্তানের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। এই নরকের দরজা দেখার জন্য প্রতিবছর বহু মানুষ তুর্কমেনিস্তান যায়।

এটি ৫,৩৫০m2 স্থান পরিবেষ্ঠিত এবং আশেপাশের নানা স্থানও বিভিন্ন বন্য মরুভূমি ক্যাম্পিং এর জন্য বিখ্যাত।

তবে এই গ্যাসক্ষেত্রটি প্রাকৃতিক নয়। এটির একটা ইতিহাস আছে।

নরকের দরজা
Photo by Giles Clarke/Getty Images

নরকের দরজা এর ইতিহাস

ঘটনা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর অর্থাৎ ১৯৭১ সালের। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চল দারউয়িজি এলাকায় অনুসন্ধান চালায় এবং ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে।

এই ক্ষেত্র দেখে তাদের মনে হয়েছিল এটি হয়ত একটি তেল ক্ষেত্র। ফলে তারা ড্রিল মেশিন দ্বারা তেল উত্তোলনের জন্য তারা ক্যাম্প বসায়।

কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয় এবং ঐ জায়গা হতে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস বের হতে থাকে।

অনুসন্ধানের সময় দুর্ঘটনাক্রমে মাটি ধসে পুরো ড্রিলিং রিগসহ পড়ে যায়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হয়নি।

যেহেতু প্রাথমিক গবেষণায় ভূতাত্ত্বিকরা দেখেন যে, সেখান থেকে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস বের হচ্ছে, তাই তারা গ্যাস উদ্গিরণের মুখ জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

তারা হয়তো ভেবেছিল গ্যাস কিছুদিন পর শেষ হয়ে যাবে এবং আগুন নিভে যাবে। কিন্তু তাদের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে গ্যাসক্ষেত্র মুখটি আজও জ্বলছে।

Leave a Reply