অরুণ কুমার বসাক: এক নিবেদিত প্রাণ ছাত্র বান্ধব শিক্ষক ও বিজ্ঞানী

0
240
অরুণ কুমার বসাক
স্কেচ: আহনাফ আবিদ/ফেসবুক

অরুণ কুমার বসাক, নামটি হয়তো শুনেছেন। আজ আমরা এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে জানবো।

এই মহান ব্যক্তিটি হচ্ছেন, বিশিষ্ট পদার্থ বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বরেণ্য শিক্ষক।

তিনি বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে এমিরিটাস প্রফেসর হিসেবে কর্মরত এবং তিনি বাংলাদেশে পদার্থ বিজ্ঞানে একমাত্র প্রফেসর এমিরিটাস।

তিনি চাইলেই বিলেতে তার বাকি জীবন কাটাতে পারতেন,কিন্তু দেশ মাতৃকার টানে তিনি ছুটে এসেছেন নিজ মাতৃভূমিতে।

স্যার ১৯৪১ সালের ১৭ অক্টোবর পাবনার শহরের রাধানগর মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ছেলেবেলা পাবনা শহরেই কাটে।

পিতা মৃত হরিপদ বসাক ছিলেন একজন বেসরকারী চাকুরীজীবী ও মাতা মৃত ঊষা রানী বসাক ছিলেন একজন গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্য তিনি ছিলেন জ্যৈষ্ঠ। ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তিনি ছাত্র জীবনেও ছিলেন তুখোড়। তিনি ১৯৫৭ সালে পাবনার রাধানগর মজুমদার একাডেমী হতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকা এর অধীনে ফার্স্ট ডিভিসনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন।

স্কুল জীবন শেষ করে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৫৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন এবং তৎকালীন রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ  এর সম্মিলিত মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেন।

আরও পড়ুন

কিছু বাঙালি গণিতবিদঃ যাদের অবদানে গণিত আজ সম্মৃদ্ধ

৬১৭৪ -কাপেরেকার ধ্রুবকঃ রহস্যময় এক অদ্ভুদ সংখ্যা

অভ্র ও একজন অদম্য এক তরুণ মেহদী হাসানের গল্প

ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তিনি রাজশাহীতে এসে রাজশাহী সরকারী কলেজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয়ে অনার্স পাশ করেন। 

অনার্স শেষ করে অরুণ কুমার বসাক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৬৩ সালে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয়ে মাস্টার্স পাশ করে সেই বছরই ২ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন।

স্যার উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড গমন করেন সেখানে বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৫ সালে পি এইচ ডি সম্পন্ন করেন।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।

এই বয়সেও সারা দিন ল্যাবে থাকেন। সকাল নয়টায় ল্যাবে আসেন, বাসায় ফিরে যান সন্ধ্যায়। শুক্র-শনিবারও তিনি ল্যাবে আসা বাদ দেন না ।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামে ‘লো এনার্জি নিউক্লিয়ার ফিজিকস’ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ৫৬ ঘণ্টা ল্যাবের সেই রুমের মধ্যেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রতিদিন সকাল ৭টায় ল্যাবে ঢুকতেন, আর বের হতেন রাত ৩টায়।

অরুণ কুমার বসাকের সাদাসিধে জীবন পছন্দ। সারাজীবন চেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানের সাধনায় কাটিয়ে দিতে। হাজার কৃতী শিক্ষার্থী গড়েছেন তিনি। অথচ এই বয়সে এসে এখনও তিনি নিজেকে একজন বৃদ্ধ ছাত্র মনে করেন।

পেনিনসুলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ২০০৭ সাল থেকে চালু করে প্রফেসর বসাক পুরস্কার ও বৃত্তি। প্রফেসর বসাকের নামে প্রতিবছর চারজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও দুই কৃত্তি শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

ছাত্রছাত্রীদের ভাবনা নিয়ে তার একটা বক্তব্য ভাইরাল হয়। এখানে তিনি শিক্ষার বিভিন্ন দিক খুব সাবলীল ভাবে উপস্থাপন করেছেন।

বক্তব্যটি দেখতে পারেন

এই মহান ব্যক্তিটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা। স্যারের জীবন আরও সুন্দর হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here