ঠিক আছে, যুদ্ধে যাইবা ভালো কথা। দেশ স্বাধীন না কইরা ঘরে ফিরতে পারবা না!

আজম খান

“মা, যুদ্ধে যেতে চাই।” মা বললেন, “ঠিক আছে, তোর বাবাকে বল।” বাবা আফতাব উদ্দীন খান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ভয়ংকর গম্ভীর মানুষ। বাবাকে তিনি মাথা নিচু করে বললো, “আমি যুদ্ধে যাচ্ছি।” সবসময়ের রাগী বাবা এবার রাগলেন না, বললেন “ঠিক আছে, যুদ্ধে যাইবা ভালো কথা। দেশ স্বাধীন না কইরা ঘরে ফিরতে পারবা না।”

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে হেঁটে হেঁটে ভারতের আগরতলায় চলে যান আজম খান। সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি গান গেয়ে বাকিদের প্রেরণা যোগাতেন।

মেলাঘর শিবিরে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। প্রথম যুদ্ধটি করেন কুমিল্লার সালদায়। কিছুদিন পর আবারও আগরতলায় ফিরে যান তখন মাত্র ২১ বছরের এই টগবগে তরুণ।

এরপর ফিরে আসেন ঢাকায়, গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিতে। অকুতোভয় এই বীর ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটা সেকশনের ইন-চার্জ। সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খালেদ মোশাররফের নির্দেশে, মূলত ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও গুলশান এলাকার অপারেশনগুলো পরিচালনা করেন তিনি।

‘অপারেশন তিতাস’ আজম খানের নেতৃত্বে হওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গেরিলা আক্রমণ। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও হোটেল পূর্বাণীসহ ঢাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন ধ্বংস করে হোটেলে অবস্থিত বিদেশিদের যুদ্ধের বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাদের। এই যুদ্ধে বাম কানে মারাত্মক আঘাত পান আজম খান। এটি তাকে পরবর্তী জীবনেও ভুগিয়েছে।

এছাড়া মাদারটেকের কাছাকাছি, ত্রিমোহনীর যুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনিকে পরাজিত করেন আজম ও তার সহ-যোদ্ধারা।

দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ক্যানসার ব্যাধির সাথে লড়াই করে ৫ই জুন, ২০১১ সালে ঢাকাস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আজম খান তার কথা রেখেছেন। দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করেছেন।

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারী তার জন্মদিন।
শুভ জন্মদিন আজম খান।

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here